Skip to content
Home » বেশ্যাপাড়ার পাঁচটি দুর্লভ সংগ্রহ – মৌ ভট্টাচার্য

বেশ্যাপাড়ার পাঁচটি দুর্লভ সংগ্রহ – মৌ ভট্টাচার্য

    বেশ্যা
    Redirect Ads

    বইঃ বেশ্যাপাড়ার পাঁচটি দুর্লভ সংগ্রহ
    লেখকঃ মৌ ভট্টাচার্য

    উনিশ শতকে কলকাতা শহরের নতুন আমোদে বাবুদের আকর্ষণ করার পাশাপাশি ‘মেয়ে’ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বেশ্যা’দের। বেশ্যাদের নিয়ে আলোড়ন ওঠে বেশ কয়েকটি বিষয়ে।

    উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ সরকার নিজেদের স্বার্থে বেশ্যাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন আইন সৃষ্টি করেন। সরকারকে সমর্থন করেছিল সমাজের কিছু মানুষ। অন্যদিকে আইন প্রয়োগের ফলে সামাজিক ভাবে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছিল বেশ্যাদের। তাঁরা তাঁদের পুরনো অবস্থানে ফিরে যেতে আন্দোলনে শরিক হয়েছিল এবং এঁদের সাথে যুক্ত হয়েছিল সমাজের কিছু মুক্ত মনের মানুষ।

    বেশ্যাদের ওপর এই দু’ধরনের মতামত সামাজিকভাবে বেশ আলোড়ন তুলেছিল এবং সেজন্যই ‘বেশ্যা’রা বটতলার বইয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল। তাঁদের সমস্যাগুলো নিয়ে লেখা হয়েছে প্রহসন, কবিতা, নাটক প্রভৃতি।

    আরও পড়ুনঃ হৃদয়ে প্রবাস – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    যুদ্ধবাজ ইংরেজদের কাছে সৈন্যরা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বেশ্যাদের সঙ্গে মেলামেশায় সৈন্যদের মধ্যে যৌনরোগের হার মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। যা সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে। সেই সময়কার সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮২৭ – ২৯% ১৮২৯ – ৩১% ১৮৬০ – ৭০% যৌনরোগে আক্রান্ত হয়।

    স্বাভাবিকভাবে সরকারকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয়েছে। অনেক সৈন্যকে অক্ষম বলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাই বলে বেশ্যাবৃত্তি সম্পূর্ণ বন্ধ করা চলে না। তাই সবদিক বিবেচনা করে সরকার ১৮৬৪ সালে পাশ করালেন ‘ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট’। সেনাছাউনিতে সৈন্যদের জন্য আলাদা বেশ্যালয় তৈরি হল কিন্তু তবুও আটকানো যাচ্ছিল না যৌনরোগের প্রকোপ। তাই বাধ্য হয়ে সরকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলেন এবং সেজন্য তৈরি হল ‘বেশ্যা গাইড’।

    বেশ্যাপাড়ার পাঁচটি দুর্লভ সংগ্রহ বইয়ে দীর্ঘ ৩১ পৃষ্ঠা জুড়ে আইনের খুঁটিনাটি সহ বেশ্যাদের কর্তব্য বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এ আইনের ফলে বেশ্যাদের সামাজিক অবস্থানের মূল্যায়ন গেল পাল্টে। বেশ্যাদের দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল প্রশাসন। হেনস্তা, অপমান, অসম্মানের ভয়ে অনেকেই বেশ্যাবৃত্তি ছেড়ে গ্রামে চলে যায়। এমনিক খদ্দেরদের একটা অংশ বিমুখ হয়ে পড়ে বেশ্যাপাড়া থেকে।

    আরও পড়ুনঃ আমি মৃণালিনী নই – হরিশংকর জলদাস

    উনিশ শতকে বাঙালি সমাজ বেশ্যা-সমস্যাকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে ভাগ হয়েছিল। একদিকে বেশ্যাদের সহমর্মী হয়ে তৈরি হয়েছিল বই-পুস্তক, অন্যদিকে বেশ্যাদের বিপক্ষে তৈরি হয়েছিল প্রবল বিরোধ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ।

    ‘বেশ্যানুরক্তি বিষমবিপত্তি’ প্রহসনে সামাজিক প্রতিচ্ছবিটা নানাভাবে ধরা পড়েছে। ভদ্রসমাজে বেশ্যা বিষয়ক আপত্তির কারণগুলো নাট্যচরিত্রের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এক ধরনের উপলব্দির কথা বলা হয়েছে। সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস এ সময়ে প্রবল হয়ে উঠেছিল। বহু বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষ যাঁরা এতদিন ধরে বেশ্যাদের অনাচার ও যৌনতা বিষয়ক ‘নষ্টামি’র কথা বলেছিলেন এবং সামাজিক পরিস্থিতি বিচার না করে একজন বেশ্যা কেন বেশ্যা হয়? তার শেকড় অনুসন্ধান না করে কেবল নাগরিক সাচ্ছন্দ্য সমস্যার দায় দিত বেশ্যাদের ওপর এবং বেশ্যাবিরোধী সিদ্ধান্ধে দাঁড়িয়েছিল; তাঁদেরকও ‘নাড়া’ দিয়েছিল ‘চৌদ্দ আইন’। এই নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত ‘পাঁচালী কমলকলি’। এ রচনায় শাসকের প্রতি বিদ্রুপ করা হয়েছে। বেশ্যাদের প্রতি সমর্থন আছে।

    আরও পড়ুনঃ একাত্তরের দিনগুলি – জাহানারা ইমাম

    ‘বারাঙ্গনা এব সমূল ঘাতিকা’ সংস্কৃত প্রবাদ অনুসারে রচিত ‘বেশ্যাই সবর্বনাশের মূল’। কীভাবে কলকাতার একদল বিবেচক মানুষ ‘কুহুকিনী’ বেশ্যাদের ফাঁদে পড়ে অবিবেচক হয়ে যায়, সেকথাই পবিত্রাতার ভঙ্গিতে উপদেশ দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন।

    ‘এলোকেশী বেশ্যা’ রচনায় সেকালে বেশ্যা বিষয়ক সমস্যার একটি সমাধানের দিক তুলে ধরেছেন লেখক। লেখক বলেছেন যিশুকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে বেশ্যাদের পরিত্রাণ ঘটবে।

    বেশ্যাপাড়ার পাঁচটি দুর্লভ সংগ্রহ এর পাঁচটি বইকে একত্রিত করেছেন মৌ ভট্টাচার্য। মৌ ভট্টাচার্য নারী অধিকার কর্মী ও পরিব্রাজক। আন্তর্জাতিক নারী ও শিশু পাচার নিয়ে দীর্ঘ দু’দশক ধরে কাজ করছেন।

    বেশ্যাপাড়ার যে পাঁচটি সংগ্রহ রয়েছে সেগুলো হলো; 
    বেশ্যা গাইড (১৮৬৮), 
    বেশ্যানুরক্তি বিষমবিপত্তি (১৮৬৩), 
    পাঁচালী কমলকলি (১৮৭২), 
    বেশ্যাই সর্ব্বনাশের মূল (১৮৭৩), এবং 
    এলোকেশী বেশ্যা (১৮৭৬)। 

    বইঃ বেশ্যাপাড়ার পাঁচটি দুর্লভ সংগ্রহ [ Download PDF ]
    লেখকঃ মৌ ভট্টাচার্য

    ইউটিউবে বইয়ের ফেরিওয়ালার বুক রিভিউ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

    আরও পড়ুনঃ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যে ৫০০ বই পড়া উচিত

    Facebook Comments
    x
    error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করুন