রেল লাইনে পাথর দেয়া হয় কেন? মেট্রোরেলে পাথর থাকে না কেন ?

রেল লাইনে পাথর দেয়া হয় কেন

ঝক ঝক ঝক শব্দে ট্রেন ভ্রমণের সময় নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন রেল লাইনের দুই পাশে অসংখ্য গ্রানাইট পাথর দেয়া থাকে। একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখবেন সেই পাথরগুলো আবার সাধারণ পাথরের মত গোলাকার মসৃণ প্রান্ত সমৃদ্ধ নয়। পাথরের প্রান্তগুলো অমসৃণ এবং কোন আকৃতির হয়ে থাকে। কেন এমনটি করা হয় চলুন জানা যাক।

রেল লাইনে পাথর

রেল লাইনে পাথর থাকে কারণ ট্রেন চলা অবস্থায় ভাইব্রেশান বা কম্পনকে হ্যান্ডেল করা এবং সঠিকভাবে লোড ডিস্ট্রিবিউশান করা। ট্রেন চলার সময় ট্রেনের weight, সাথে‌ vibration পাথরের মাধ্যমে অনেকটা অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে যায়, এতে মাটির উপর চাপ কম পড়ে, ফলে মাটিতে ধস নামার ভয় কম থাকে । বিস্তারিত বলতে গেলে পাথরের নিচে থাকে মোরাম আর মাটি দেওয়া formation লেভেল। ট্রেন চলমান অবস্থায় আসল যে লোড টা লাইনে পড়ে, তাকে বলে dynamic load এবং এই ডাইনামিক লোড এর মান ট্রেনের আসল ওজনের চেয়ে বেশি হয়। তার ফলে যে vibration টা হয় পাথর থাকলে তা খুব ভালো ভাবে formation এ ছড়িয়ে দিতে পাড়ে।

দ্বিতীয় কারণ হলো buckling আটকানো। অবশ্য buckling আটকানোর জন্য নিচের পাথর না, দুপাশের পাথর যাকে আমরা বলি shoulder ballast, সেগুলো কাজ করে। Buckling মানে হলো তাপমাত্রা বেড়ে গেলে রেল লাইন অনেক সময় এক পাশে হট করে সরে যায়, সেটা বাধা দেয় এই পাথর।

আর তৃতীয় কারণ বলতে পারেন কিছুটা খুব easy maintenance এ drainage এ সাহায্য করে। এছাড়াও পাথরের টুকরো গুলোর উপর জল দাঁড়ায় না, বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় না, আগাছা জন্মায় না, লাইন বসে যায় না। 

আরও পড়ুনঃ জিপিএ ৫ পদ্ধতির উদ্ভব কেন জুতার ফ্যাক্টরিতে?

পাথরের প্রান্তগুলো অমসৃণ হয় কেন?

এবার জানা যাক পাথরের প্রান্তগুলো কেন অমসৃণ এবং কোণ আকৃতির হয়ে থাকে। যে পাথরগুলো রেললাইনে বিছানো হয় সেগুলো যদি গোল আকৃতির এবং মসৃণ প্রান্তের হতো তাহলে একটার সাথে আরেকটার ঘর্ষণে পাথরগুলো দূরে সরে যেতো এবং যে উদ্দেশ্যে পাথরগুলো দেয়া হয় সেই কাজ আর হতো না। তাই পাথরগুলোকে এমনভাবে কাটা হয় যেন পাথর টুকরো গুলো নিজেদের মধ্যে interlock হয়ে একটা layer তৈরী করে, যাতে করে ঘর্ষণের ফলে আর দূরে সরে না যেতে পারে।

মেট্রো রেলে পাথর থাকে না কেন ?

মেট্রো রেলের মেনটেনেন্স এর ঝামেলা দূর করার জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল পাথরহীন ট্র্যাক বানানো হয়। তাহলে যেখানে মেট্রো ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বেশি সেখানে মেনটেনেন্স করা দুরূহ হয়ে যায়। আবার যেখানে উঁচু জায়গায় মেট্রো লাইন যায় সেখানে পাথর নীচের রাস্তায় পড়ে এক্সিডেন্ট এর সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সাধারন ট্র্যাকে সেইসব সম্ভাবনা থাকে না আর মেনটেনেন্স করা সুবিধা জনক হয় যেহেতু ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি তুলনামূলক ভাবে অনেক কম ।

এছাড়াও অনেক জায়গা তেই রেল লাইনে পাথর থাকেনা। হাওড়া স্টেশনের অনেক প্ল্যাটফর্ম লাইনে পাথর নেই, কংক্রিট এর ওপর রয়েছে। অতে কোনো অসুবিধা হয়না কারণ সেখানে ট্রেন এর গতি অনেক কম। ফলে ট্রেন এর dynamic load ও সেই জন্য তৈরি হওয়া ভাইব্রেশন দুটোই অনেক কম হয়। ফলে অসুবিধা হয়না।

আরও পড়ুনঃ সৌদি আরবের সাথে সময়ের পার্থক্য ৩ ঘন্টা হলেও ঈদ কেন একদিন পরে হয়?

Facebook Comments

Leave a Reply