জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-সনদ অথবা সার্টিফিকেটে নিজের/পিতা/মাতার তথ্য ভুল

ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন

হয়তো আমাদের ৯০% মানুষের মাঝে এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের/তথ্য ভুলের সমস্যাটি বিদ্যমান। প্রায়সময়েই এই নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন আসে এবং সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকে বিভ্রান্তিতে থাকে। আমি আমার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে এই নিয়ে কিছু বিষয় শেয়ার করছি হয়তো সেগুলো আপনাদের কাজে আসবে।

আমি এমন কিছু মানুষকে দেখেছি যাদের নিজের কাগজপত্রে সবকিছু সঠিকই ছিলো কিন্তু তাঁদের বাবা-মায়ের এনআইডির সাথে নামের মিল করতে গিয়ে নিজের কাগজপত্রে গরমিল করে ফেলেছে। এইটা কোনভাবেই করা যাবেনা। এইখানে প্রথম রুল হচ্ছে আপনার সকল কাগজপত্রে নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখসহ সবকিছুই সেইম থাকতে হবে। আবার বলছি, আপনার নিজের সকল কাগজপত্রে সবকিছু সেম রাখবেন, বাবা-মায়ের আইডিতে কি আছে সেটা পরের বিষয়।

আপনি জাস্ট কমনসেন্স দিয়ে চিন্তা করুন, আপনার নাম একাডেমিক সার্টিফিকেটে নাম “লাল মিয়া”। আপনার জন্ম সনদে “মোঃ লাল মিয়া”। আবার এনআইডিতে “মোঃ বাল মিয়া”। এরকমটা হলে কোনটা আসলেই আপনি, কিভাবে বুঝবে? সুতরাং নিজের কাগজপত্রে ভিন্ন ভিন্ন নাম/ পিতার নাম/ মাতার নাম গ্রহণযোগ্য নয়।

আর এটার সমাধান হলো, আপনার কাগজপত্রের যেকোন একটাকে কারেক্ট হিসেবে ধরে, সেইটা অনুযায়ী অন্যগুলো সংশোধন করে নিতে হবে। মনে করুন আমরা সবজায়গায় শুধু “লাল মিয়া” রাখবো। তাহলে জন্ম সনদ থেকে “মোঃ” কেটে দিবো এবং এনআইডি থেকে “মোঃ বাল” কেটে “লাল” করে দিবো। এইখানে ডকুমেন্ট হিসেবে আমাদের একাডেমিক সার্টিফিকেটটা সাবমিট করতে হবে এবং সেটা প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে যে আসলেই আমি “লাল মিয়া”। সাধারণত একাডেমিক সার্টিফিকেট সংশোধন একটু জটিল। কিন্তু এনআইডি এবং জন্ম সনদ সহজেই সংশোধন করা যায়। মোটকথা আমাদেরকে যেকোনভাবেই আমাদের নিজের সকল কাগজপত্রের সকল তথ্য একইরকম করতে হবে।

এখন মনে করেন একজনের নাম “স্বপ্ন ঘোষ”। এবং উনার নাম ভুল করে সকল জায়গায় (খেয়াল করুন, উনার সকল কাগজপত্রে) চলে আসছে “স্বপ্ন দোষ”। তাহলে কিন্তু উনার নাম ভুল থাকা স্বত্বেও উনি তেমন কোন ঝামেলায় পরবেন না। কারণ উনার সবকিছুতে একইরকম তথ্য আছে। যদিও সেটি ভুল কিন্তু সকল জায়গায় একইরকম থাকার কারণে এই ভুলটাই সঠিক হিসেবে কাজ করতেছে। এখন উনি যদি চায় এটি সংশোধন করতে তাহলে কিন্তু আবার সকল কাগজপত্রেই সংশোধন করতে হবে, কেননা ঐ যে সকলকিছুতে একইরকম তথ্য থাকতে হবে। তাই উনি চাইলে এই ভুল নামটাকেই সঠিক হিসেবে মেনে নিতে পারে এবং এতে পরবর্তীতে উনার কোন সমস্যাও হবেনা। আপনাদেরও যদি এমন কোন ভুল থাকে এবং সেটা সকল কাগজেই আছে, তাহলে সেটিকেই সঠিক ধরে নিতে পারেন এবং এর কারণে তেমন কোন সমস্যায় পরবেন না, কেননা আপনার নিজের সকল কিছুতে একই তথ্য। কিন্তু চেঞ্জ করতে গেলে সবকিছুতেই আবার চেঞ্জ করতে হবে, কারণ উদ্দেশ্য সকল জায়গায় একই তথ্য রাখা।

এখন আসা যাক বাবা-মায়ের এনআইডি কার্ডের তথ্য কখন প্রয়োজন পড়বে?

সাধারণত বাবা-মায়ের এনআইডি তখনি প্রয়োজন পড়বে যদি তাঁদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক দেখাতে হয়। যেমনঃ আপনি যদি উচ্চশিক্ষা নিতে বাহিরে যেতে চান এবং বাবা/মায়ের ব্যাঙ্ক একাউন্ট দেখাতে চান তখন সেই নামটা বড় একটা ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। অথবা আপনার কোন কোটা আছে এবং চাকরি বা কোথাও ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা এপ্লাই করতে চান তখন যদি আপনার বাবা-মায়ের এনআইডির নামের সাথে আপনার নিজের কাগজপত্রে দেয়া আপনার বাবা-মায়ের নামের মিল না থাকে তাহলে তো প্রমাণ হবেনা যে উনি আসলেই আপনার বাবা/মা।

সেক্ষেত্রে আপনি আপনার বাবা/ মায়ের আইডি সংশোধন করে নিতে পারেন। অথবা একটা এফিডেভিটও করে নিতে পারেন। কেননা, যদি আপনি নিজের আইডি সংশোধন করেন তাহলে কিন্তু আপনার সকল কাগজপত্রেই সংশোধন করতে হবে। তাই কেউ যদি বাহিরে পড়তে যেতে চান অথবা বাবা-মা কে সহ বাহিরে বসবাস করতে চান, মানে বাবা-মায়ের সাথে আপনার রিলেশান দেখানো প্রয়োজন পরবে এমন ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আইডির সাথে আপনার তথ্যের ক্রস ম্যাচ করা হবে, তাছাড়া অন্য কোথাও বাবা-মায়ের আইডির তেমন প্রয়োজন হয়না। আবার বলছি যেসকল জায়গায় বাবা-মায়ের সাথে রিলেশান দেখাতে হবে সেসব ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের নাম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার নিজের সবকিছু একইরকম রাখা। কেননা বাবা-মায়ের সাথে রিলেশান সবক্ষেত্রে দেখাতে হয়না, কিন্তু আপনার সকল কাগজপত্রে একইরকম তথ্য আছে কি না এটা সবজায়গায় চেক করা হয়। তাই বাবা-মায়ের আইডির চাইতে বেশি গুরুত্ব দিবেন নিজের সকল কাগজপত্রে সকল তথ্য একইরকম রাখতে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

সংশোধনে করণীয়…

এবার আসা যাক সংশোধনের প্রয়োজন হলে কিভাবে এবং কি কি ডকুমেন্টের মাধ্যমে তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। বর্তমানে এনআইডি সংশোধন অনেক সহজ। আপনি ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করেই ১মাসের মধ্যেই নিজের তথ্য নিজেই সংশোধন করতে পারবেন। তবে আপনি ঠিকানা যদি ভিন্ন কোন জেলায় পরিবর্তন করতে চান সেক্ষেত্রে অনলাইনে সেটি সম্ভব হবেনা।

নির্বাচন কমিশনের সাইটে গিয়ে আপনার এন আই ডি তথ্য দিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করবেন এবং পরে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফেইস ভেরিফিকেশান কমপ্লিট করলে আপনাকে ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিতে বলবে। তারপর সেই ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করে আপনি আপনার সকল কাজ সেই ওয়েবসাইট থেকেই করতে পারবেন। আরও বিস্তারিত জানতে ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পারেন।

এখন জানা দরকার তথ্য পরিবর্তনে কি কি ডকুমেন্ট লাগবে? অনলাইনে আপনার তথ্য পরিবর্তনে প্রতিটি ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি অথবা স্পষ্ট ছবি তুলে আপলোড করতে হয়। আমরা আগে আলোচনা করেছি সকল জায়গায় একই তথ্য থাকতে হবে। এখন মনে করেন আপনার শুধু এনআইডি-তে নাম আসছে “বাল মিয়া” কিন্তু বাকি সকল জায়গায় “লাল মিয়া”। এখন সংশোধনের আবেদনে আপনার যেই সারটিফিকেটে/ডকুমেন্টে সঠিকটা আছে সেটা আপলোড দিলেই হবে। সেটি হতে পারে জন্ম-নিবন্ধন/এসএসএসি/এইচএসসি সার্টিফিকেট। মানে একটা সঠিক ডকুমেন্টকে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে ভুল তথ্যটি কারেক্ট করতে হবে।

এখন মনে করেন আপনার বাবা/মায়ের নাম ভুল আসছে। তাহলেও কিন্তু আপনার নিজের জন্ম-নিবন্ধন/এসএসএসি/এইচএসসি সার্টিফিকেটই আপলোড করতে হবে। তারা দেখবে আপনার অন্য কাগজপত্রে আপনার বাবা-মায়ের নাম কিভাবে দেয়া এবং সেটা দেখেই সংশোধন করবে। এইখানে কিন্তু বাবা-মায়ের আইডি আপলোড করলে হবেনা, কখনোই আপনার বাবা-মায়ের আইডি কার্ড দেখে আপনার আইডি সংশোধন করবেনা। সবসময় নিজেরটাকে বেশি গুরুত্ব দিবেন। আশা করছি বুঝাতে পেরেছি। ধন্যবাদ।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *